Sunday, January 3, 2016

মটরশুঁটি



মাছের ঝোলে, তরকারিতে বা সেদ্ধ করে তো অনেক খাওয়া হলো মটরশুঁটি। এবার একটু ভিন্ন স্বাদ নিন। দেখে নিতে পারেন শাহানা পারভীনের রেসিপিগুলো।
মাছের পকেটে মটরশুঁটি

উপকরণ: আস্ত ভেটকি মাছ আধা কেজি, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, টমেটো সস ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, নারকেলের দুধ আধা কাপ, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো।
পুরের জন্য: সেদ্ধ মটরশুঁটি আধা কাপ, সেদ্ধ মুরগির মাংস বা চিংড়ির কিমা ২ টেবিল চামচ, আদা-রসুনবাটা ১ চা-চামচ, টমেটো সস ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১টি, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: আস্ত মাছ পরিষ্কার করে ধুয়ে পিঠের দিকে চিরে পকেট তৈরি করে নিতে হবে। লবণ, লেবুর রস, ময়দা, হলুদগুঁড়া ও মরিচগুঁড়া ১০ মিনিট মেখে রাখতে হবে। সব উপকরণ তেলে ভেজে পুর তৈরি করতে হবে। তারপর মাছের পকেটে মটরশুঁটির পুর ভরে দিতে হবে এবং তেল গরম করে দুই পিঠ ভাজতে হবে। অন্য একটি ফ্রাইপ্যানে তেলে পেঁয়াজ লাল করে ভেজে সব মসলা কষিয়ে ১ কাপ পানি দিয়ে গ্রেভি তৈরি করে নিতে হবে। ভাজা মাছ গ্রেভিতে দিয়ে এপিঠ-ওপিঠ করে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
মটরশুঁটি পুডিং

উপকরণ: মটরশুঁটি পেস্ট (দুধ দিয়ে ব্লেন্ড করা) ২ টেবিল চামচ, ডিম ২টি, ঘন তরল দুধ ১ কাপ, পাউরুটি ২ টুকরা, গুঁড়া চিনি ৩ টেবিল চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স ২-৩ ফোঁটা, সেদ্ধ গোটা মটরশুঁটি চিনিতে ক্যারামেল করে মাখিয়ে নেওয়া (সাজানোর জন্য)।
প্রণালি: ক্যারামেল করা মটরশুঁটি ছাড়া বাকি সব উপকরণ বিট করে নিতে হবে। ক্যারামেল করা স্টিলের বাটিতে এটি ঢেলে প্রেশার কুকারে দিয়ে ভাপে সেদ্ধ করে নিতে হবে। ঠান্ডা করে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
মটরশুঁটি মঞ্জুরি
উপকরণ: সেদ্ধ মটরশুঁটি ১ কাপ, সেদ্ধ বরবটি কুচি আধাকাপ, পালংপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, ব্রকলি কুচি ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ২টি, ডিম ১টি, ময়দা ২ টেবিল চামচ, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ভাজার জন্য।
প্রণালি: মটরশুঁটি ও বরবটি ব্লেন্ডারে আধা ভাঙা করে নিতে হবে। তেল ছাড়া ওপরের সব উপকরণ দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এটি ডুবো তেলে ভেজে সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
মটরশুঁটির পাস্তা কাটলেট

উপকরণ: সেদ্ধ মটরশুঁটি আধা কাপ, সেদ্ধ করা পাস্তা ২০০ গ্রাম, ক্যাপসিকাম কুচি ২ টেবিল চামচ, ফেটানো ডিম ১টি, বিস্কুটের গুঁড়া পরিমাণমতো, তেল ভাজার জন্য।
হোয়াইট সস তৈরি: ১০০ গ্রাম মাখন, ১০০ গ্রাম ময়দা, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো। সব উপকরণ চুলায় দিয়ে নেড়েচেড়ে সস তৈরি করতে হবে।
প্রণালি: হোয়াইট সস চুলায় থাকতে তাতে পাস্তা, মটরশুঁটি ও ক্যাপসিকাম দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। চারকোনা বাটিতে ফয়েল পেপার রেখে এই মিশ্রণটি ঢেলে দিতে হবে। একটু ঠান্ডা হলে এক থেকে দুই ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে কাটলেট আকার করে নিতে হবে। ফেটানো ডিমে চুবিয়ে ও বিস্কুটের গুঁড়া মেখে অল্প তেলে এপিঠ-ওপিঠ বাদামি করে ভেজে পরিবেশন করতে হবে।
মটরশুঁটি ক্রোকে

উপকরণ: সেদ্ধ মটরশুঁটি ১ কাপ, সেদ্ধ আলু (ম্যাশড) ১ কাপ, গাজর কুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ মিহি কুচি ১ টেবিল চামচ, মুরগির কিমা পেস্ট ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ মিহি কুচি ২টি, আদাবাটা ১ চা-চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা-চামচ, ফেটানো ডিম ১টি, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, বিস্কুটের গুঁড়া প্রয়োজনমতো, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ভাজার জন্য।
প্রণালি: ডিম, বিস্কুটের গুঁড়া ও তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ ভালো করে চটকে নিতে হবে। একটু লম্বা আকার করে ফেটানো ডিমে চুবিয়ে বিস্কুটের গুঁড়া মাখিয়ে ডুবো তেলে নিতে হবে। সস দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
মটরশুঁটি–মাংস

উপকরণ: গরুর মাংস (পাতলা করে কাটা) আধা কেজি, মটরশুঁটি আধা কাপ, পেঁয়াজ (আস্ত) ৭-৮টি, ব্রকলি ৫-৬ টুকরা, গাজর ৫-৬ টুকরা, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, টমেটো পিউরি ২ টেবিল চামচ, চিনি ১ চা-চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজন মতো, কাঁচা মরিচ ফালি ২-৩টি।
প্রণালী: মটরশুঁটি, গাজর, ব্রকলি ও আস্ত পেঁয়াজ, লবণ ও ১ টেবিল চামচ তেল দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে ভালো করে ছেঁচে নিতে হবে। এবার আদাবাটা, রসুনবাটা, লবণ, দিয়ে মাখিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে তাতে চিনি দিতে হবে। চিনি একটু লাল হলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে তাতে মেরিনেট করা মাংস দিয়ে দিতে হবে। ১ কাপ গরম পানি দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করতে হবে।
মাংস সেদ্ধ হলে ভেজে রাখা মটরশুঁটিসহ সবজি, টমেটো পিউরি ও লেবুর রস দিতে হবে। সব শেষে ঠান্ডা পানিতে কর্নফ্লাওয়ার গুলে মাংসে
দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। গরম গরম পরিবেশন করতে হবে।
মটরশুঁটির পিৎজা

উপকরণ: ডো তৈরি: ময়দা ২ কাপ, ইষ্ট দেড় চা-চামচ, তেল ১ টেবিল চামচ, লবণ ১ চিমটি, চিনি ১ চা-চামচ, পনির কুচি আধা কাপ।
টপিং তৈরি: সেদ্ধ মটরশুঁটি ২ টেবিল চামচ, সেদ্ধ মুরগির কিমা আধা কাপ, টমেটো সস ১ কাপ, মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, ওরিগেনো আধা চা-চামচ, ক্যাপসিকাম ৩-৪ টুকরা, ধনেপাতা কুচি ১ চা-চামচ, তেল ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। ওপরের সব উপকরণ চুলায় দিয়ে নেড়েচেড়ে পুর তৈরি করতে হবে।
প্রণালি: আধা কাপ মৃদু গরম পানিতে ইষ্ট ভিজিয়ে রাখতে হবে। ১০ মিনিট পরে ডো তৈরির সব উপকরণ দিয়ে ময়দা মেখে গরম জায়গায় ঢেকে রাখতে হবে ১ ঘণ্টার মতো। ডো ফুলে উঠলে ১ টেবিল চামচ পনির কুচি মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। এবার খামির দুই ভাগ করে মোটা রুটি বেলে নিতে হবে। পিৎজা তৈরি রুটির ওপর টমেটো সস, মটরশুঁটির পুর, বাকি পনির কুচি, ক্যাপসিকাম ও সামান্য তেল বা বাটার ছড়িয়ে প্রিহিটেড ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ২৫-৩০ মিনিট বেক করতে হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো

Friday, January 1, 2016

নববর্ষের জন্য মিষ্টি



চলুন এবার ঘরে বসেই মিষ্টি বানাই


ছানা তৈরি
উপকরণ:
দুধ ৩ লিটার,
সিরকা ১ কাপ,
পানি ৫ থেকে ৬ কাপ।
প্রণালি: সিরকার সঙ্গে পানি মিশিয়ে রাখুন। বড় হাঁড়িতে বা প্যানে দুধ জ্বাল দিন। একবার ফুটে উঠলে চুলা থেকে নামিয়ে মাঝেমধ্যে নাড়ুন। ৫ থেকে ৮ মিনিট পর ৩ কাপের মতো সিরকা ধীরে ধীরে দিতে থাকুন। মাঝেমধ্যে হালকা করে নাড়ুন।
দুধ থেকে সবুজ পানি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেলে ছানার পানি ঝাঁঝরিতে ছেঁকে কলের িনচে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ। এতে সিরকার টক টক ভাবটা চলে যাবে। এবার একটি পরিষ্কার ভেজা সুতি বা মসলিন কাপড়ে বেঁধে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখুন। সব পানি ছানা থেকে বের হয়ে আসবে। এবারে কাপড়ের গিঁট খুলে একটি পাত্রে রেখে দিন। ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ছানা তৈরি করলে ৩ কাপ পানির সঙ্গে আধা কাপ সিরকা ভিজিয়ে রাখুন। এ ক্ষেত্রে দুধ জ্বাল দিতে হবে দেড় লিটার এবং একই নিয়মে ছানা তৈরি করে ফেলুন।

গোলাপ জাম

উপকরণ: শিরার জন্য:
পানি দেড় কাপ,
চিনি দেড় কাপ।
উপকরণ  মিষ্টির জন্য:
ক্রিম আধা কাপ,
গুঁড়া দুধ ১ কাপ, ময়দা ২ চা-চামচ, ঘি দেড় কাপ ও ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: চিনি ও পানি একত্রে জ্বাল দিয়ে শিরা তৈরি করুন। গুঁড়া দুধ ও ময়দা মিশিয়ে ক্রিম দিয়ে ছেনে মসৃণ ডো তৈরি করুন। ১ টেবিল চামচ ঘি মিশিয়ে আরেকটু মসৃণ করে ছেনে নিন। ১০-১২টি ভাগ করুন। হাতের তালুতে একেকটি ভাগ ডো নিয়ে গোল গোল মিষ্টি তৈরি করুন। কড়াইয়ে ঘি অল্প আঁচে গলিয়ে গরম করুন। এবার মাঝারি আঁচে মিষ্টিগুলো ঘিয়ে ঢেলে লালচে রং করে ভেজে নিন। সঙ্গে সঙ্গে শিরায় ছেড়ে দিন। ৩-৪ মিনিট মিষ্টিসহ শিরা জ্বাল দিন। নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
 

ছানার সন্দেশ

উপকরণ:
ছানা ৪ কাপ,
ক্রিম ১৭০ গ্রাম,
চিনি ২ কাপ
 মাওয়া (গ্রেটেড) দেড় কাপ,
এলাচ গুঁড়া দেড় চা-চামচ,
মাখন ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: ছানা তিন ভাগের দুই ভাগ চুলায় দিয়ে মাঝারি আঁচে অল্প অল্প করে চিনি দিয়ে রান্না করুন। চিনি ও ছানা মিশে গেলে বাকি এক ভাগ ছানা দিয়ে নাড়ুন। এবার পানি টেনে ছানা চিনিতে মিশে পাক ধরলে ক্রিম ও মাওয়া মিশিয়ে চুলা বন্ধ করে নিন।
ট্রেনে মাখন ব্রাশ করে ছানা ঢেলে খুন্তি দিয়ে চেপে সমান করুন। ঠান্ডা হলে ফ্রিজে ৪-৫ ঘণ্টা রাখুন। এবারে স্কয়ার বা বরফির আকারে কেটে ওপরে পেস্তা কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।


কমলাভোগ

উপকরণ: (মিষ্টির জন্য): দুধ (স্কিম মিল্ক বা ফ্যাট ফ্রি হলে ভালো হয়) ২ লিটার, কমলার রস ২ কাপ, সিরকার ও পানির মিশ্রণ ১ কাপ (প্রয়োজন হলে), জাফরান প্রয়োজন অনুযায়ী, বেকিং পাউডার আধা টেবিল চামচ, আইসিং সুগার ২ টেবিল চামচ, সুজি ১ টেবিল চামচ, অরেঞ্জ এসেন্স ২ ফোঁটা (না দিলেও চলবে), জাফরানি রং সোয়া চা-চামচ, লবঙ্গ (প্রতিটি মিষ্টির জন্য) ১টি করে।

(
শিরার জন্য): চিনি ৩ কাপ, পানি ৫ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১ চা-চামচ।
প্রণালি: ৪ কাপ পানির সঙ্গে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিন। ঘন হয়ে এলে আরও ১ কাপ পানি দিয়ে জ্বাল দিন। শিরার ঘনত্ব বুঝে চুলা বন্ধ করে দিন। একটি প্যান বা হাঁড়িতে দুধ জ্বাল দিন। কয়েকবার ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিন। দুধের হাঁড়ি আর নাড়াবেন না। পুরু সর পড়লে তা সাবধানে দুধ থেকে উঠিয়ে ফেলুন। পুনরায় মাঝারি আঁচে দুধ জ্বাল দিন। একবার ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে অল্প অল্প করে কমলার রস দিন। দুধে দই বা ছানা ভাব এলে বুঝবেন সিরকার মিশ্রণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ছানা দুধ থেকে আলাদা না হলে সিরকা দিতে হবে এবং দুধ ও ছানার পানি আলাদা হয়ে গেলে ঝাঝরিতে ছেঁকে নিতে হবে। সুতি বা মসলিন কাপড়ে ছানা নিয়ে গিঁট মেরে ঝুলিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন ছানা যেন বেশি শক্ত হয়ে না যায়।
এবারে একটি ট্রেতে ছানা নিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট মথে মসৃণ করে নিন। ছানার মধ্যে একটা ভেজা ভেজা ভাব থাকবে। আরও মসৃণ করতে চাইলে একটু ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। তারপর এটি ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব মনে হলে দুই-এক চা-চামচ ময়দা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মথে নিন। এই ডো থেকে ছোট ছোট গোলা তৈরি করুন। গোল আকৃতির মিষ্টি তৈরি করে তার মাঝখানে আঙুল চেপে একটু ছোট গর্তের মত তৈরি করুন। প্রতিটি মিষ্টির গর্তে একটি করে লবঙ্গ গেঁথে দিন। কয়েকটি পেস্তা কুচি লবঙ্গের চারপাশে দিয়ে ফুলের মতো তৈরি করুন। মিষ্টির চারপাশে একটু একটু করে জাফরানের রেণু ছিটিয়ে দিন। সাবধানে সাজাতে হবে যেন ফেটে না যায়। এবার কিচেন টাওয়েল দিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন।
চিনির শিরায় এলাচ গুঁড়া দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে এই শিরাতে একটি একটি করে কমলাভোগ ছেড়ে দিন। কড়াই বা হাঁড়ি আলতোভাবে এ পাশে ওপাশে ঘুরিয়ে ভারী ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ পর ঢাকনা খুলে কড়া আঁচে ১০ মিনিট জ্বাল দিন। আরও ৫-১০ মিনিট জ্বাল দিয়ে চুলা বন্ধ করে ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার ঢাকনা খুলে ঠান্ডা হতে দিন। তারপর পরিবেশন পাত্রে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।


গুড়ের সন্দেশ

উপকরণ: ছানা আধা কেজি, খেজুরের গুড় ১ কাপ, চিনি সিকি কাপ, এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, ঘি ১ থেকে ২ চা-চামচ, বাদাম ও পেস্তা কুচি দেড় চা-চামচ।
প্রণালি: গুড় পাটায় থেঁতো করে নিন। ছানা হাতের তালু দিয়ে ছেনে নিন। প্যানে গুড় জ্বাল দিয়ে হালকা নরম হলে ছানা দিয়ে আধা মিনিটের মতো নেড়ে নিন। চিনি দিয়ে অল্প আঁচে ঘন ঘন নাড়ুন। ছানায় একটু চটচটে ভাব এলে এলাচ গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে নাড়ুন এবং চুলা থেকে নামিয়ে নিন। ট্রেতে ঘি ব্রাশ করে গুড় ও ছানার মিশ্রণ ঢেলে সমান ও পুরু করে চেপে দিন। একটু ঠান্ডা হলে চারকোনা করে কেটে ওপরে বাদাম পেস্তা ছিটিয়ে দিন।

বাটার টফি সন্দেশ
উপকরণ: কনডেন্সড মিল্ক ৪০০ গ্রাম, পানি ১ কাপ, চিনি ২ কাপ, মাখন ১ কাপ।
প্রণালি: এক কাপ পানিতে কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে নাড়ুন। প্যানে মাখন গলিয়ে পানি ও কনডেন্সড মিল্কের মিশ্রণ দিয়ে অল্প আঁচে ঘন ঘন নাড়ুন। ফুটে উঠলে চিনি দিয়ে অনবরত নাড়ুন। দুধ ঘন হয়ে ক্ষীরসার মতো হলে আঁচ কমিয়ে দিন এবং নাড়তে থাকুন। একটি ট্রে বা প্লেটে সামান্য মাখন ব্রাশ করে রাখুন। আঠালো হয়ে এলে মাখন ব্রাশ করা প্লেট বা ট্রেতে ঢেলে সমান করে চেপে দিন। হালকা গরম থাকতে থাকতে টফির মতো চারকোনা করে কেটে ঠান্ডা হতে দিন। এই টফি সন্দেশ এয়ারটাইট কন্টেইনারে ৭ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।


কাঁচা গোল্লা

উপকরণ: ছানা ৩ কাপ, মাওয়া ১ থেকে দেড় কাপ, ক্রিম ১ কাপ, চিনি ২ কাপ, মাওয়া (গ্রেট করা) দেড় কাপ, এলাচ গুঁড়া ১ চা-চামচ।
প্রণালি: ছানা তিনটি সমান ভাগে ভাগ করুন। দুই ভাগ ছানা মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। ছানার পানি বেরিয়ে হালকা নরম হলে মৃদু আঁচে অল্প অল্প করে চিনি দিয়ে জ্বাল দিন। ছানা ও চিনি মিশে আঠালো হয়ে এলে বাকি এক ভাগ ছানা চিনি মেশানো ছানার সঙ্গে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নাড়ুন। ক্রিম মিশিয়ে এবং এলাচ গুঁড়া দিয়ে জ্বাল দিন।
হালকা গরম থাকতে থাকতে মসৃণ করে ছেনে কয়েকটি ভাগ করুন। হাতের মুঠোয় নিয়ে গোল করে কাঁচা গোল্লা তৈরি করা মাওয়ায় গুঁড়িয়ে পরিবেশন করুন।


ডায়াবেটিক মিষ্টি (কাঁচা গোল্লা)

ছানার উপকরণ: গরুর দুধ আধা কেজি, সিরকা-ছানার পানি ১ থেকে দেড় টেবিল চামচ।
প্রণালি: দুধ চুলায় দিয়ে জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে ছানার রেসিপি অনুযায়ী সিরকা মিশিয়ে ছানা তৈরি করুন।
সন্দেশ তৈরির জন্য: ছানা ১ কাপ, এলাচ গুঁড়ো সামান্য, যেকোন ব্র্যান্ডের ডায়াবেটিক চিনি সিকি চা চামচ। মাওয়া সিকি কাপ+২ টেবিল চামচ মাখন, ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: ছানা ঝরঝরে করে মেখে প্যানে মাখন গলিয়ে ৩-৪ মিনিট নাড়াচাড়া করে ২ টেবিল চামচ মাওয়া দিয়ে নাড়ুন। ঠিক নামানোর আগ মুহূর্তে ক্যান্ডেরাল ও এলাচ গুঁড়া দিয়ে নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিন। মিশ্রণ কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর মসৃণ করে ছেনে কাঁচা গোল্লার মতো ছোট ছোট মিষ্টি তৈরি করুন। মাওয়ায় গড়িয়ে পরিবেশন ডিশে সাজিয়ে নিন।

মালাই চপ
উপকরণ: ছানা ৩ কাপ, দুধ আড়াই লিটার, চিনি সিকি কাপ, ক্রিম আধা কাপ, জাফরান আধা চা-চামচ, গোলাপজল ১ টেবিল চামচ, পানি সোয়া কাপ।
প্রণালি: দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। নিচে যেন পোড়া না লাগে। ঘন হলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। গোলাপজলে জাফরান ভিজিয়ে নিন।
চিনি ও পানি জ্বাল দিন একত্রে। পাতলা শিরা তৈরি করুন। ছানা মসৃণ করে ছেনে নিয়ে স্পঞ্জ রসগোল্লার মতো বল তৈরি করে হাতের মুঠোয় নিয়ে চ্যাপ্টা করুন। এবারে শিরায় দিয়ে রান্না করুন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট চুলায় রাখুন। তারপর চুলা বন্ধ করে দিন। প্রতিটি মিষ্টির ওপর ক্রিমের ছোঁয়া লাগিয়ে দিন। পরিবেশন পাত্রে মালাই চপগুলো সাজিয়ে ওপরে ঘন দুধ ঢেলে গোলাপজল ও জাফরান ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।


রসমালাই

উপকরণ: ছানা এক কাপ, দুধ দেড় থেকে ২ লিটার, গোলাপজল আধা টেবিল চামচ, জাফরান আধা চা-চামচ, চিনি এক কাপের তিন ভাগের চার ভাগ, বাদাম ও পেস্তা কুচি ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: ছানা মসৃণ করে ছেনে নিয়ে ডিম্বাকার (অর্থাৎ ল্যাংচার মতো) ছোট মিষ্টি তৈরি করুন। পাতলা শিরা তৈরি করে মিষ্টিগুলো গরম শিরায় ছেড়ে ৭-৮ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। গোলাপজলে জাফরান ভিজিয়ে রাখুন। দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা জমে এলে অল্প অল্প করে চিনি দিয়ে নাড়ুন যেন সর না পড়ে। দুধ বেশ ঘন হয়ে এলে নামিয়ে রাখুন। সার্ভিং বোলে শিরা থেকে মিষ্টি ছেঁকে ওঠান। গোলাপজল ও জাফরান মিশিয়ে নিন। অর্ধেক জাফরান-গোলাপজল দুধে ছিটিয়ে দুধ মিষ্টির ওপর ঢেলে দিন। বাকি গোলাপজল-জাফরান মিষ্টির ওপর ছিটিয়ে দিন। এবার বাদাম ও পেস্তা কুচি দিয়ে মনের মতো করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
 সূত্রঃ প্রথম আলো

ali