Wednesday, March 2, 2016

আপনার মনের মানুষটি কিভাবে ঘুমায় তা ফেসবুক ঘাটলেই জানা যাবে


বতর্মান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। অনেকেই নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে ফেসবুকে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। একজন নিয়মিত ব্যবহারকারীর ফেসবুকে কার্যক্রমের ওপর নজর রেখে জানা যায় তাঁর ঘুমানোর অভ্যাস। এমনটিই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুকে কারো ঘুম সম্পর্কে জানার গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সোরেন লভ-জনসেন। তাঁর মতে, কারো ঘুমানোর অভ্যাস সম্পর্কে জানতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ফেসবুকে সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় সম্পর্কে নজর রাখতে হবে।
সোরেন লভ-জনসেন মেইল অনলাইনকে বলেন, ঘুম থেকে উঠেই অনেকে ফেসবুক দেখেন। আবার রাতে ঘুমানোর আগে একবার অন্তত হলেও ফেসবুক দেখেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ কখন ফেসবুক দেখা হয়, তা জেনেই কারো ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা করা যায়।
আরও পড়ুন 
নিজের বন্ধুদের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে জানতে সোরেন লভ-জনসেন ফেসবুক মেসেঞ্জারের বিশেষ সেবা ‘টাইম স্ট্যাম্প’ ব্যবহার করেন। এ ছাড়া ফেসবুক মেসেঞ্জারের তথ্য জানতে কিছু কোড ও সফটওয়্যার ব্যবহার করেন তিনি। টানা কয়েকদিন ‘টাইম স্ট্যাম্প’ ব্যবহারের পর সোরেন এর তথ্য থেকে জানতে পারেন ওই দিনগুলোতে তাঁর বন্ধুরা কোন সময় ফেসবুকে কোনো কার্যক্রম করেনি। এর মাধ্যমেই তিনি বুঝতে পারেন বন্ধুদের ঘুমানোর অভ্যাস।
 আরও পড়ুন 
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মন্ত্র

ফেসবুকে স্ট্যাটাস ছাড়া চলেই না?



 গবেষকেরা বলছেন, কিছু মানুষের মস্তিষ্কই এমনভাবে তৈরি হয়ে গেছে যে, তাঁরা ফেসবুকে কোনো কিছু পোস্ট না দিয়ে থাকতে পারে না 
সকালের নাশতা থেকে শুরু করে, দুপুর ও রাতের খাবার, সম্পর্ক নিয়ে ঝামেলা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফেসবুকে ক্রমাগত পোস্ট দিতে থাকে কেউ কেউবার্লিনের ফ্রি ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা মনে করেন, ফেসবুকে বেশি বেশি আপডেট দেওয়ার একটি সহজ কারণ তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন 
গবেষণা প্রবন্ধের মূল লেখক ডার মেশি বলেন, যাঁরা ফেসবুকে পোস্ট না দিয়ে থাকতে পারেন না, তাঁদের মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিশেষ সক্রিয়তার কারণে এটি ঘটেমস্তিষ্কের ওই অঞ্চলটি সামাজিক চেতনা ও পুরস্কার সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত 
গবেষকেরা ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রিজোনেন্স ইমেজিং বা এফএমআরআই ব্যবহার করে দেখেছেন মানুষ যখন নিজের সম্পর্কে তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করে তখন মস্তিষ্কের মেডিয়াল প্রিফন্টাল করটেক্স ও নিউক্লিয়াস অ্যাকুমবেন্স অঞ্চলটি অধিক সক্রিয় হয় 
গবেষকেরা বলেন, অন্যর কাছে নিজেকে কার্যকর হিসেবে তুলে ধরতে বিশেষ করে নিজের তথ্য জানানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দক্ষতা হিসেবে ধরা হয়এটি পেশাগত সাফল্য, রোমান্টিক আকর্ষণ, বন্ধু তৈরিতে কাজে আসে 
গবেষকেরা মস্তিষ্কে সরাসরি তথ্য তোলার পদ্ধতি উদ্ভাবন করার দাবিও করেছেনতথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ অনলাইন

No comments:

Post a Comment

ali