Saturday, March 12, 2016

রোবটই নিয়ন্ত্রক


সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইন্টারনেট সম্মেলনে (ডাব্লিউআইসি) প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিছেন, আগামীর যুগ হবে ইন্টারনেট ও যান্ত্রিক বুদ্ধির। মানুষ যেমনি করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তেমনি করে একটি যন্ত্র অপর একটি যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। শুধু তাই নয় মানুষের সহকর্মী হয়ে কাজ করবে রোবট। রোবটের দখলে থাকবে অনেক কাজ। এমনকি রোবট মানুষের প্রতিদ্বন্দী হয়ে ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে। আগামীতে সড়ক জুড়ে থাকবে চালকবিহীন গাড়ি। এসব গাড়ি নিজে নিজেই অন্য গাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে।
রোবট কী আস্থার প্রতিদান দিতে পারে?
সংকটময় মুহূর্তে রোবট মোটেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারে না। আগুন বা অন্য কোনো জরুরি মুহূর্তে মানুষ অন্ধভাবে রোবটের ওপর বিশ্বাস করে, কিন্তু রোবট সে আস্থার যোগ্য নয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় মার্কিন গবেষকেরা এ তথ্য পেয়েছেন। 
জর্জিয়া টেক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (জিটিআরআই) জ্যেষ্ঠ গবেষণা প্রকৌশলী অ্যালান ওয়াগনার বলেন, জরুরি মুহূর্তে নিরাপত্তার জন্য মানুষ রোবটের ওপর সীমাহীন আস্থা রাখতে পারে। কিন্তু যন্ত্র সেই আস্থার যোগ্য নয় বলে প্রমাণ করেছে। মানুষ বিশ্বাস করে, রোবটিক সিস্টেম মানুষের চেয়ে এ বিশ্ব সম্পর্কে ভালো জানে। তাই রোবট কখনো ভুল করবে না বা রোবটের কাজে কোনো ত্রুটি হবে না। 
ডায়াবেটিস হলেও চিন্তা নেই
গবেষকেরা রোবটের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা চালাতে একটি বহুতল ভবনে আগুন নেভানোর মহড়া চালান। গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, যন্ত্রের আচরণ বিশ্বাসযোগ্য না হলেও মানুষ অন্ধভাবে রোবটের নির্দেশ পালন করে। তাঁরা ৪২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ গবেষণা চালাতে একটি রোবট তৈরি করেন। আগুন লাগলে ভবন খালি করতে মানুষ রোবটের নির্দেশনা মানে কি না, তা জানতে এ পরীক্ষা চালানো হয়। শিক্ষার্থীদের ‘ইমার্জেন্সি গাইড রোবট’-এর নির্দেশ মানতে বলা হয়। এই রোবটের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁরা একটি সম্মেলন কক্ষে জড় হন। সেখানে তাঁদের রোবট সম্পর্কিত একটি জরিপে অংশ নিতে হয় এবং একটি সাময়িকীর নিবন্ধ পড়তে বলা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া এই শিক্ষার্থীদের শুরুতে মূল গবেষণা সম্পর্কে জানানো হয়নি। 
উদ্ধার কাজে প্রযুক্তি
উদ্ধারকারী কুকুরটির নাম গোনতা। তার পিঠে জিপিএস প্রযুক্তি সুবিধাসম্পন্ন ব্যাকপ্যাক ছিল বটে, তবে সে অনুসন্ধান চালাল নিজের প্রখর ঘ্রাণশক্তি দিয়ে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে গিয়ে জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাল সে।
যদিও এটা ছিল একটি মহড়া, তবে ভূমিকম্প বা বিস্ফোরণে ভবন ধসে আটকে পড়া দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধারে ব্রিটানি স্প্যানিয়েল জাতের এই কুকুরটির সহজাত গুণের সঙ্গে প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগানোর বিষয়টি পরখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাপানে ২০১১ সালের মার্চে ভূমিকম্প ও সুনামির সময় জীবিত মানুষকে খুঁজে বের করতে সহায়তা করে ১০ বছর বয়সী কুকুর গোনতা। অন্যান্য উদ্ধারকারী কুকুরের মতো তখন সে তার ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে।
কিন্তু এখন দেশটির এক গবেষক বলছেন, দুর্যোগের পরিস্থিতিতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার সম্ভাবনা বাড়াতে একটি ধারণা উদ্ভাবন করেছেন তিনি। ওই ধারণায় প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে।
ধারণাটির উদ্ভাবক জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষক কাজুনোরি ওহনো। তাঁর উদ্ভাবিত ধারণার ওপর ভিত্তি করে গত মাসে দেশটির ফুজিমি শহরে একটি প্রশিক্ষণপর্ব হয়। প্রশিক্ষণ পর্বে গোনতার শরীরে স্থাপন করা হয় জিপিএস ও ক্যামেরা। জিপিএস ও ক্যামেরার মাধ্যমে ভেসে আসে লাইভ ভিডিও মানচিত্র।


No comments:

Post a Comment

ali