Sunday, April 17, 2016

ঘরে বসে আয় - bangladeshi newspapers



ইদানিং বাংলাদেশে খুব বেশি মাতামাতি হচ্ছে আউটসোর্সিং নিয়েরাতারাতি বড়লোক হবার বাহারি ও
রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার পায়তারায় মত্ত আছে একটি শ্রেনীঅনলাইনে আয় করার এইসব
বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিতও হচ্ছেন অনেকেকেউ কেউ আবার এই ক্ষেত্রটিকে সদ্য সমালোচিত এমএলএম
ব্যাবসার সাথে গুলিয়ে ফেলছেনবাস্তবে আসলে কি ?
আউটসোর্সিং শব্দটি আমাদের দেশে যে খুব বেশি পরিচিত তা নয়, তবে অসাধু ব্যাবসায়ী আর চটকদার বিজ্ঞাপনের
কল্যাণে শব্দটি এখন মানুষের মনে নানা কৌতুহলের জন্ম দিচ্ছে, এবং ইতিমধ্যে বাংলাদেশীদের কাছে অতি পরিচিত শব্দ
হিসাবে সমাদৃত হচ্ছেআবার কারো কারো কাছে নিন্দিত হচ্ছেকিন্তু এমনটা হবার কথা ছিল নাএখন থেকে দশ বছর আগেও আমাদের দেশের মানুষ এই শব্দটির সাথে পরিচিত ছিল না
তখন যে আউটসোর্সিং এর কাজ হতনা তা নয়, কিন্তু এখনকার মত ছিল নাপরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগীতা মূলক বিশ্বায়নের এই সময়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আর্থ-সামাজিক
অস্থিরতার কারনে অর্থনৈতিক বৈম্য এবং অব্যবস্থাপনার কারনে বেকার সমস্যা ক্রমেই বাড়ছেবাংলাদেশও এই পরিস্থিতির স্বীকারযার ফলে বেকার যুবকদের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের
মানুষ জীবনের প্রয়োজনে বিকল্প আয়ের পথ খুজছেএই সুযোগে আউটসোর্সিং শব্দটি বাংলাদেশের মানুষের মাঝে দ্রুত প্রসার লাভ করছে, এবং হয়তো ভবিষ্যতে আরও করবে
কিন্তু আসলে কি এই ব্যবস্থার(আউটসোর্সিং) মাধ্যমে এইসকল সমস্যার সমাধান সম্ভব ? এর সঠিক উত্তর হল পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশেই সম্ভবতবে এর পেছনে অনেকগুলি কিন্তু জড়িত !!
যেমন আমাদের দেশে এখন হর হামেশাই শোনা যায় একটি কথা, সহজ উপায়ে অনলাইনে আয়আমার কথা হল, এত সহজে যদি অনলাইনে কাড়ি কাড়ি ডলার/টাকা কামানো যেত
তাহলে পৃথিবী কোটি কোটি মানুষ স্রেফ টাকা উপার্যনের জন্য দিন রাত খাটা খাটুনি বন্ধ করে একখানা কম্পিউটার আর অনলাই কানেকশন নিয়ে যার যার ঘরে বসে যেত, আর ডলার আয় করত
কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একটু ভিন্নআসলে আপনার যদি দক্ষতা থাকে তাহলে আউটসোর্সিং কেন অন্য যেকোন সেক্টরে আপনি সফল হতে পারেনআউটসোর্সিংএর ভিন্নতাটুকু হল, এখানে কাজ
করা এবং কাজ পাবার স্বাধীনতাটুকু আছে যা আপনি অন্য পেশায় পাবেন নাআর একটা পার্থক্য হল আপনার পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন এখানে পাবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত সম্মানী পাবেন,
অন্যান্য পেশায় যার জন্য প্রতিনিয়ত কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে কর্মকর্তাদের মন কাষাকষি লেগেই থাকে, যা আউটসোর্সিং এ নেইএক কথায় আউটসোর্সিং হল সঠিক কাজ করে সহজ
উপায়ে আয় করার একটি কঠিন মাধ্যমযেখানে সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এবং কাজ করার জন্য সঠিক প্লাটফর্মে আসতে হবে
এবার জেনে নেই আউটসোর্সিং কি ? আউটসোর্সিং তথা ফ্রিল্যান্সিং শব্দের মূল অর্থ হল মুক্ত পেশাঅর্থাৎ মুক্তভাবে কাজ করে আয় করার পেশাআর একটু সহজ ভাবে বললে, ইন্টারনেটের
ব্যাবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়ে নেয়নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে এসব কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলেযারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ
করে দেন, তাঁদের ফ্রিল্যান্সার বলে
এখন এই কাজগুলি কি ? আউটসোর্সিং সাইট বা অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজগুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা থাকেযেমন: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ও
তথ্যব্যবস্থা (ইনফরমেশন সিস্টেম), লেখা ও অনুবাদ, প্রশাসনিক সহায়তা, ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা (Customer Service), বিক্রয় ও বিপণন, ব্যবসাসেবা ইত্যাদিএইসকল
কাজগুলি ইন্টারনেট ব্যাবস্থার মাধ্যমে করে দিতে পারলেই অনলাইনে আয় করা সম্ভব এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের উন্নত ধরনের কাজ করারও ব্যাবস্থা আছে আউটসোর্সিং জগতেকিন্তু
আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে নানা পদ্ধতির মাধ্যমে আউটসোর্সিং করে আয় করার সহজ উপায়ের নামে মানুষকে ধোকা দিচ্ছেবাস্তবে উপরে উল্লিখিত
কাজগুলো অথবা এইরকম কারিগরি কাজে দক্ষতা থাকলে কেবল আউটসোর্সিং জগতে ভাল আয় করা সম্ভব কোনপ্রকার দক্ষতা ছাড়া এবং আউটসোর্সিং সম্পর্কে ভাল
জানাশোনা না থাকলে ধোকা খাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাইতাই আগে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরী করেন, তারপর এই পেশায় আসুনছোট্র করে বলে রাখি, আপনি যে কাজই জানেন,
তা যদি মানুষের কাজে আসতে পারে বলে আপনার মনে হয়, মনে রাখবেন অনলাইনের মাধ্যমে এই কাজটুকু করেই আপনি আয় করতে পারেনশুধু দরকার সঠিক দিক নির্দেশনা, এবং যে কাজটুকু
করবেন তা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা
ইন্টারনেটের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের কাজ অনেকেই করছেন, আবার অনেকে নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছেনঅনলাইনে সহজে আউটসোর্সিংয়ের কাজ পেতে কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই চলেনিচে সে রকম কিছু কৌশল দেওয়া হলো
 অনেকেই যাঁরা চার-পাঁচটা কাজের (জব) জন্য আবেদন করেই জব (কাজ) পেয়ে যানআবার কেউ কেউ ১০০টা আবেদন করেও জব পান নাএটা নির্ভর করে আপনি কত কম মূল্যে (রেটে) আবেদন করেছেন তার ওপর
 যেসব বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড না সেসব  বায়ারের জবে আবেদন করবেন নাকারণ, কোনো কনট্রাক্টরকে (ফ্রিল্যান্সার) ভাড়া বা হায়ার করতে হলে তার পেমেন্ট মেথড ভেরিফায়েড থাকতে হয়
 কোনো একটা জব পোস্ট করার পর যত তাড়াতাড়ি সেটিতে আবেদন করবেন ততই ভালো
আপনি যত বেশি সময় অনলাইনে (ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে) থাকবেন ততই আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশিকারণ কিছু কিছু কাজ আছে, যেগুলো পোস্ট করার এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করে জমা দিতে হয়যেমন ফেসবুকে বা অন্য কোনো সাইটে ভোট দেওয়া এবং কিছু ভোট সংগ্রহ করে দেওয়া; আবার হঠাৎ করে কোনো ওয়েবসাইটে সমস্যা হয়েছে তা ঠিক করে দেওয়া ইত্যাদিকাজেই শুরুতে বেশি সময় অনলাইনে থাকার চেষ্টা করুনযাতে বায়ার আপনাকে কোনো বার্তা পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রত্যুত্তর দিতে পারেন
 মার্কেটপ্লেসগুলোতে দেখবেন প্রতি মিনিটে নতুন নতুন জব পোস্ট করা হচ্ছে, সেগুলোতে আবেদন করুনযেসব জবে কোনো কনট্রাক্টরের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, সেসবে আবেদন না করাই ভালোকারণ বায়ার যদি এদের মধ্য পছন্দের কনট্রাক্টর পেয়ে যায় তাহলে আর অন্য কনট্রাক্টরের প্রোফাইল চেক করে দেখবে না
 যেসব জবে শর্ত দেওয়া আছে এবং সেগুলো যদি আপনি পূরণ করতে না পারেন তাহলে আবেদন না করাই ভালো
 যাঁরা ওডেস্কে দুই-তিনটা কাজ করেছেন, এখন বেশি মূল্য হারে আবেদন করতে চান, তাঁরা যে জবটিতে আবেদন করবেন সে জবের নিচে দেখুন বায়ারের আগের জবগুলোর তালিকা দেওয়া আছেসেখানে যদি দেখেন বায়ার তাঁর আগের জবগুলোতে বেশি ডলার দিয়ে অন্য কনট্রাক্টরকে কাজ করিয়েছেন, তাহলে আবেদন করতে পারেনআর যেসব বায়ার আগের জবগুলোতে বেশি ডলারে কাজ করায়নি, তাদের জবে বেশি রেটে আবেদন না করাই ভালো
ইন্টারনেটে কোনো কাজ করতে হলে অবশ্যই কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বেসিক ব্যবহার জানা অত্যাবশ্যককম্পিউটারের বেসিক হিসেবে আপনাকে জানতে হবে এমএসওয়ার্ড, এমএসএক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি আর ইন্টারনেটে কিভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে হয়, মেইলিং এবং ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন সম্পর্কেও জানতে হবেফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে আরও একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে কমিউনিকেশনএর জন্য ইংরেজিতে দক্ষতাটাও দরকারফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে কাজ শুরু করতে চাইলেই সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে দক্ষতার প্রয়োজন সর্ব প্রথম, তবেই ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করা সম্ভবএজন্য আপনাকে প্রশিক্ষণ নিতে হবেআর প্রশিক্ষণ নেওয়া আগে আপনাকে জানতে হবে কোন কোন কাজ অনলাইনে পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে আপনাকে আপনার যোগ্যতা ও পছন্দ ফিল্ড বেঁছে নিতে হবে, কি কি জানতে হবে, ঐ ফিল্ডের ভবিষ্যৎ কি! মোটামুটি পরিশ্রমী হলে আপনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অথবা ইমেইল মার্কেটিং কোর্স করতে পারেনআর ইংরেজিতে যদি খুব ভালো হন তাহলে ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেনআপনার যদি আঁকাআঁকি ভালো লাগে/ক্রিয়েটিভিটি থাকে তাহলে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে পারেনআবার আপনার যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের বেসিক নলেজ থাকে তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইন শিখতে পারেনএছাড়াও আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং সিএমএস ভিত্তিক কোর্স ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন

No comments:

Post a Comment

ali