Friday, April 8, 2016

একটু সচেতন হলেই জীবন সুন্দর হবে - নতুন দিগন্ত



অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কেন প্রয়োজন


অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অক্সিডেশন (জারণ) প্রক্রিয়াকে কমাতে সাহায্য করে। অক্সিডেশনের কারণে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-জাতীয় খাবার খেলে কোষ স্বাস্থ্যকর থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-জাতীয় খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে কাজ করে। এটি ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত রাখে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লেবু ভিটামিন সির চমৎকার উৎস এবং এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও শক্তিশালী উৎস।

ওজন কমে যাচ্ছে?
ওজন কমে যাওয়া কোনো রোগ নয়, তবে নানা রোগের লক্ষণ হতে পারে। আবার তা হতে পারে স্রেফ খাদ্যাভ্যাসের ত্রুটির জন্যও।
শরীরের ওজন যত ছিল, অল্প সময়ের মধ্যে তার ৫ শতাংশের বেশি কমে যাওয়াটা খারাপ। ওজন কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিচের সমস্যাগুলো থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে—
ক্ষুধামান্দ্য বা খাবারে অরুচি, খাওয়ার সময় খাবার আটকে যাওয়া, ঢোক গিলতে অসুবিধা বা গলায় ব্যথা অনুভব করা, বারবার বমি বিশেষ করে খাওয়ার পরই বমি, দীর্ঘদিন পাতলা পায়খানা, বদহজম অথবা দুর্গন্ধযুক্ত সাদাটে রঙের পায়খানা হওয়া।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ওজন কমে যায়। ঘন ঘন প্রস্রাব, বারবার পিপাসা ও ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া বা হাত-পা ঝিনঝিন বা জ্বালা করা ডায়াবেটিসের লক্ষণ।
প্রায়ই জ্বর হওয়া, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি থাকলে যক্ষ্মা কি না, দেখতে হবে। যক্ষ্মায় ওজন হ্রাস পায়। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের ক্যানসারেও ওজন কমে। থাইরয়েডের সমস্যায়ও ওজন কমে।
সমাধান কী?
*
প্রথমে বুঝতে চেষ্টা করুন, ওজন কতটা কমেছে।
*
খেয়াল করুন, আপনি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে ফেলেছেন কি না। ইচ্ছা করে খাওয়া কমিয়ে না থাকলে অন্য কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না বা রুচি কমে যাচ্ছে কি না।
*
ওজন কমার সঙ্গে অন্যান্য সমস্যা চিকিৎসকের কাছে খুলে বলুন।

কীভাবে বুঝবেন শরীরে পানির প্রয়োজন?

শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পানি। শরীরে পানিশূন্যতা হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর কাজ করতে অসুবিধা হয়। এতে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি ফুড টিম জানিয়েছে শরীরে পানিশূন্যতার কিছু লক্ষণ, যেগুলো দেখলে বুঝতে হবে শরীরে দ্রুত পানি প্রয়োজন।
১. গাঢ় প্রস্রাব
পানিশূন্যতা হলে প্রস্রাবের রং বদলে যায়। যদি শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি থাকে, তাহলে প্রস্রাব হালকা হলুদ বা স্বচ্ছ রঙের হয়। আর খুব গাঢ় হলুদ রং মানে শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে। এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। যদি পানি পানের পরও প্রস্রাবের রং আগের মতোই থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কেননা, এটি হেপাটাইটিসের লক্ষণ।
২. কম প্রস্রাব হওয়া
পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে সাধারণত চার থেকে সাতবার টয়লেটে যেতে হয়। পানি কম পান করা হলে প্রস্রাবের মাত্রা কমে যায়। এতে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হতে থাকে। এটি পরবর্তীকালে শরীরের ক্ষতি করে। তাই প্রস্রাবের মাত্রা কমে গেলে দ্রুত পানি পান করুন।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য
পানি শরীরের কোষ ও টিস্যুগুলোকে আর্দ্র রাখে। এটি হজম প্রক্রিয়াকেও ঠিকঠাক রাখতে কাজ করে। এমনকি পানি গ্যাস্ট্রো-ইনটেসটাইনাল ট্র্যাক্টকে পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিলে আঁশজাতীয় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।
৪. শুষ্ক ত্বক
ত্বক শরীরের বড় অঙ্গ। ত্বক ভালো রাখতে পানি প্রয়োজন। ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে অনেক সময় ব্রণ, অ্যাকজিমা, সোরিয়াসিস ইত্যাদি সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই শরীর শুষ্ক হলে পানি পান করুন।
৫. মনোযোগের অভাব
মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে ৯০ শতাংশ পানি রয়েছে। পানিশূন্যতা হলে মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি মেজাজ ও মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলে।
পানিশূন্যতার কারণে মনোযোগের অভাব হয়। গবেষণায় বলা হয়, পানিশূন্যতার কারণে মস্তিষ্কে অবসন্ন ভাব তৈরি হয়। তাই কোনো কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হলে পানি পান করে নিন।
৬. শুষ্ক মুখ
পানিশূন্যতা হলে মুখে স্যালিভা (লালা) কম উৎপন্ন হয়। এতে মুখ শুষ্ক লাগে; মুখে দুর্গন্ধ হয়। যদি এমন হয়, তবে দ্রুত পানি পান করুন।
৭. মাথাব্যথা
মস্তিষ্ককে সজীব রাখতে পানি প্রয়োজন। শরীরে পানির অভাব হলে মাথাব্যথা হয়। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও রক্তের পরিবহন কমে যায়। তাই মাথাব্যথা হলে প্রথমে একটু পানি পান করে নিন।
৮. অবসন্নতা
পানিশূন্যতা শরীরে অবসন্নতা ও অলস ভাব তৈরি করে। মস্তিষ্কে পানির অভাব হলে রক্তচাপ কমে যায় এবং শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সমস্যা হয়। এতে অবসন্ন ও অলস ভাব হয়। দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতা আরো অনেক রোগেরও লক্ষণ। তবে প্রাথমিকভাবে অবসন্নতা কাটাতে পানি পান করুন।
৯. গাঁটে ব্যথা
গাঁট ও কার্টিলেজ ৮০ শতাংশ পানি দিয়ে তৈরি। তাই যদি পানির অভাব হয়, এটির কার্যক্রমে অসুবিধা হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি গাঁটে ব্যথা হলে চিকিৎসা তো করতেই হবে। তবে যদি স্বল্পমেয়াদি ব্যথা হয়, তাহলে পানি পান করুন।

No comments:

Post a Comment

ali