Monday, April 25, 2016

বাচ্চার কানে ব্যথা হলে করণীয় - bangladeshi newspaper



বাচ্চার কানে ব্যথা হলে করণীয়

শিশুদের কানে ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়কারণ, অতি সাধারণ কারণে যেমন কানে ব্যথা হতে পারে, তেমনি এটা থেকে শুনতে সমস্যা কিংবা কানে সংক্রমণ হয়ে তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকেকানে কিছু ঢুকলে, আঘাত পেলে কিংবা সংক্রমণের কারণে সাধারণত কানে ব্যথা হয়আবার টনসিলের সমস্যা বা সর্দি-কাশি থেকেও কানব্যথা হতে পারে
diet for men 
লক্ষণ
খুব ছোট শিশুরা বারবার কান চুলকাতে থাকে এবং প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ভোগেঅনবরত কাঁদতে থাকে তাদের কানের বাইরের অংশ ফোলা ও লালচে দেখাতে পারে, কান গরমও হতে পারে কখনো কখনো কান দিয়ে পুঁজ বা পানি পড়তে দেখা যায়কানে সংক্রমণ হলে ব্যথার সঙ্গে জ্বরও হতে পারে
করণীয়
* শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো কিংবা গোসল করানোর সময় যেন কানে কিছু ঢুকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন
* পুকুর বা সুইমিংপুলের পানিতে নামার আগে কানে ইয়ার প্লাগ কিংবা তেলে ভেজানো তুলা গুঁজে দিনতবে অতিরিক্ত তেল আগেই চিপে ফেলে দিতে হবে
* কটন বাড, ক্লিপ, কাঠি, সেফটিপিন ইত্যাদি দিয়ে শিশুর কান পরিষ্কার করবেন না
* ঠান্ডা লাগার পর যদি কানে ব্যথা হয় বা কান থেকে রস বেরোয়, কানে তুলা গুঁজে দেবেন না
* পাতলা কাপড় দিয়ে কানের বাইরে দিকের ময়লা পরিষ্কার করে দিন কিন্তু ভেতরের ময়লা সাফ করার প্রয়োজন নেইতবে বেশি ময়লা জমলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
* ব্যথা সামান্য হলে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ দিতে পারেন তবে জ্বর ও ব্যথা বেশি হলে, কান লাল হয়ে গেলে কিংবা পুঁজ পড়লে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখান
শিশু বুকের দুধ না পেলে কি করবেন
সন্তান জন্মানোর পর নতুন মায়েরা এমনিতেই উদ্বিগ্ন থাকেনএই উদ্বেগ আর অস্থিরতা থেকে প্রায় সময় মায়েরা বলেন যে, তাদের সন্তান ঠিক মতো দুধ পাচ্ছে নাঅনেকে আবার মনে করেন সিজারিয়ান অপারেশন করালে বুকের দুধ দেওয়া যাবে না এটা একেবারেই ভুল ধারণাপ্রসবের পর নতুন মা ও নবজাতক শিশু উভয়ের কাছে বুকের দুধ সঠিকভাবে পান করানোর বিষয়টি রপ্ত করতে কিছুটা সময় লাগেযথেষ্ট সময় নিয়েও যদি শিশু বুকের দুধ পান করতে না পারে, তখনই মায়েদের সাহায্য করতে হবেযত দিন শিশু বুকের দুধ খেতে না চায়, তত দিন শিশুকে বুকের দুধ টিপে বের করে কাপে বা চামচে করে খাওয়াতে হবে
কখনো বা দেখা যায়, শিশু কিছুতেই মায়ের বুকে যেতে চাইছে না বা মায়ের দুধ খেতে চাইছে নামা যখনই বুকে নিতে চান, অমনি শিশু কান্নাকাটি করেশিশুকে দুধ পান করানোর সময় মা বা অন্য কেউ যদি শিশুর মাথা পেছন থেকে বুকে চেপে রাখে বা সে চেষ্টা করে, শিশু তখন বিরক্তি বোধ করেপরবর্তী সময়ে এই শিশু আর মায়ের বুকে যেতে চায় নাশিশুকে জোর করে খাওয়ানো থেকে কিছুক্ষণের জন্য অব্যাহতি দিতে হবেপরে সঠিক নিয়মে চেষ্টা করতে হবে
যদি কোনো শিশুকে চুষনি বা বোতল দেওয়া হয়, তাহলে শিশু নিপল ও স্তনের বোঁটা দিয়ে দুধপানে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেবোতলের নিপলে একটু চাপ লাগাতেই দুধ পেয়ে যায়অথচ স্তনের বোঁটা চুষে টেনে পরিশ্রম করে খেতে হয়উপরন্তু টিনের দুধ বুকের দুধের চেয়ে বেশি মিষ্টিফলে শিশু আর মায়ের দুধ খেতে চায় না
diet for men 
মাকে যতটুকু সম্ভব বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার (যেমন- মাছ, ডিম, দুধ প্রভৃতি) খেতে হবেঅতিরিক্ত দুধ তৈরিতে যে খাবারগুলো সরাসরি সহযোগিতা করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজর, শিম, বাদাম (চীনাবাদাম, কাজুবাদাম), কালোজিরার ভর্তা, লাউ, ডুমুর, পালংশাক, কলমিশাক, টমেটো প্রভৃতিবুকের দুধ বাড়ানোর জন্য লেকটোহিল নামের দুধ পাওয়া যায়
হলিসিডনামের কালাজিরার ক্যাপসুলও পাওয়া যায়ফার্মেসি থেকে এই দুধ কিংবা ক্যাপসুল কিনে খেলে অনেক ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায় 
diet for men
কিছু পরামর্শ
বুকের দুধ বাড়াতে আরো কিছু পরামর্শ এখানে তুলে ধরছি -
* স্তনের বোঁটাকে শিশুর জন্য পাঁচ মিনিট করে চুষতে দিতে হবে, একেবারে একফোঁটা দুধ না এলেও এই কাজটা নিয়মিত করেই যেতে হবেএকবারে ১০-২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় ধরে দুধ দেবেন
* বাচ্চাকে যত ঘন ঘন দুধ দেবেন তত বেশি দুধ আসতে থাকবেবাচ্চা যদি খুব কম দুধ পান করে সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে দুধ চিপে ফেলে দেবেন
* একবারে এক স্তন থেকেই দুধ খাওয়াতে হবেদুই দিক থেকে খাওয়াবেন না কারণ, প্রথম দিকের দুধে পানির পরিমাণ বেশি থাকে আর শেষ দিকের ঘন দুধে পুষ্টি বেশি থাকেএতে বাচ্চার পেটও ভরেকিন্তু অর্ধেক খাওয়ানোর পর পরিবর্তন করে আরেক দুধে চলে গেলে বাচ্চা শেষ দিকের পুষ্টিকর দুধ থেকে বঞ্চিত হয়
* শিশু স্তন চুষবার সময় মাকে অবশ্যই নিরুদ্বিগ্ন এবং চিন্তামুক্ত থাকতে হবেশিশু যদি মায়ের বুক না টানতে চায় তবে জোরাজুরি করা উচিত নয়বরং নিরিবিলি ঘরে বসে মা আস্তেআস্তে তার মাথায় হাত বুলিয়ে কথা বলে ধৈর্যের সাথে চেষ্টা করবেনযখন সে মুখ হা করবে তখন শিশুকে বুকের সাথে মিশিয়ে ধরতে হবে মায়ের শিশুর দিকে ঝুঁকে যাওয়ার দরকার নেই
*কোনো কারণে যদি বুকের দুধ খাওয়ানো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে তবে মা যখনই আবার খাওয়াতে চাইবেন তখনই শিশুকে বুকের দুধ টানাতে হবেশিশু চুষলেই আস্তে আস্তে আবার আগের মতো দুধ আসবে
* কোনো অবস্থাতেই শিশুর মুখে বোতল বা চুষনি দেওয়া উচিত নয়তাহলে শিশু তার মায়ের স্তনের বোঁটা মুখে নিতে চাইবে নাসে ওই নরম রাবারের বোঁটা বেশি পছন্দ করবে
* মাকে পর্যাপ্ত খাবার দিতে  হবেতার ঘুম ও বিশ্রামের ব্যাঘাত ঘটানো যাবে নাস্তন্যদানের ১৫ মিনিট আগে মা দুই গ্লাস পানি পান করে নিলে স্তন্যদান সহজ হবে
* বেশি পরিমাণে জোরে দুধ এলে খাওয়ানোর সময় চোখেমুখে দুধ ছিটিয়ে পড়ে, তাই শিশুকে খাওয়ানোর আগে কিছুটা দুধ টিপে ফেলে নিতে পারেনএতে বোঁটাও তার নিজের আকার ফিরে পাবেশিশুর বোঁটাসহ কালো অংশ ধরতে সুবিধা হবে
* মাকে সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা অভিভাবকদের দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবেতাকে কখনোই তিরস্কার বা হতাশ করা যাবে না
* ডেলিভারির দুই সপ্তাহ পর এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও যদি মায়ের বুকে পর্যাপ্ত দুধ না আসে বা কম আসে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবেতবে প্রায় সময় দেখা যায় ওপরের নিয়মগুলো পালন করলে আর এক থেকে দুই সপ্তাহ ধৈর্য ধরলে এমনিতেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়এ সময় শিশু কম দুধ পাচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন হয়ে কৌটার দুধ দেওয়া হবে আত্মঘাতীকারণ, প্রথম দিকে এমনিতেই শিশুর চাহিদা কম থাকে আর একবার কৌটার দুধ দিলে তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে খুব কষ্ট হয়আজকাল সরকারি হাসপাতালগুলোতে এবং ক্লিনিকেও ব্রেস্ট  ফিডিং কাউন্সেলিং’-এর জন্য আলাদা সেন্টার বা বুথ থাকেএসব স্থানে গিয়ে মায়েরা সাহায্য চাইতে পারেন

শীতে শিশুর পরিচর্যা

দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে আপনার সন্তান বেড়ে উঠছে প্রতিনিয়ত একরাশ পরিবর্তনকে চোখের সামনে দেখে দেখেঅনেক সময় আপনার ছোট্ট সন্তানটি হয়তো তার ছোট্ট ভাবনার পৃথিবীতেই সম্মুখীন হয় অনেক জটিলতারযা হয়তো সে কারো সাথে বলতে পারে নাক্রমাগত চেপে রাখতে রাখতে হয়তো সে হয়ে ওঠে কিছুটা অন্তর্মুখীঅথবা চারদিকের নানা অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাঝে বেড়ে উঠতে গিয়ে হয়তো কখনো একরাশ হতাশা কাজ করে তার মাঝেঅনেক সময় এসবের সমাধান করতে না পেরে হয়তো আপনার সন্তানটি পা বাড়ায় কোন ভুল পথে, হয়ে পড়ে মাদকাসক্ত বা বেছে নেয় আত্মহত্যার পথএসব থেকে সুরক্ষিত রাখুন আপয়ার সন্তানকেছোটবেলা থেকে তার বন্ধু হয়ে উঠুন
প্রতিদিন তাকে বলুন এই ১০ টি কথাএগুলো তাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে আর কখনোই দূরত্ব বাড়তে দেবে না আপনার সাথে

আমি তোমাকে বিশ্বাস করিঃ

প্রতিদিন একবার বলুন এ কথাটাএই কথাটার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অপূর্ব এক শক্তি আপনার সন্তানকে কখনোই আপনার বিশ্বাস ভেঙে দেবার মতন খারাপ কাজগুলো করতে দেবে না
কোন ভুল পথে পা দেবার আগে একবার হলেও তার কানে বাজবে আপনার আস্থার এই কথাটিসে ফিরে আসবেই!

তোমাকে আমি ভীষণ ভালোবাসিঃ

সন্তানকে ভালোবাসেন সব বাবা মাই! কিন্তু আমাদের সমাজে এ কথাটা বলার প্রচলন একেবারেই নেইআমাদের সন্তানেরা তাদের মা বাবার কেবল শাসনের রূপটিই তাই দেখে, ভালোবাসাটা অনুভব করতে পারে না সেভাবেভালোবাসা প্রকাশ খারাপ কিছু নয়তাই রোজ রাতে ঘুমুতে যাবার আগে সন্তানের মাথায় হাঁট বুলিয়ে একবার বলুন কথাটাদেখবেন কি অসাধারণ প্রভাব পড়ছে এতে!

তুমি পারবেঃ

আপনার সন্তানের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরী করতে সবচেয়ে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে আপনার এই ছোট্ট একটি কথাতাই যখনই আপনার সন্তান কোন কাজ করতে যাচ্ছে বা কোন কিছুতে সাময়িক ব্যর্থ হয়েছে, তাকে এ কথাটি বলুনআপনার সন্তান আসলেই তা করে দেখাবে!

হাল ছেড়ে দিও নাঃ

মাঝে মাঝে হয়তো আপনার সন্তান হতাশ হয়ে পড়তে পারে কোন কাজে আশানুরূপ ফল না পেয়েকিন্তু এতে তাকে বকা ঝকা না দিয়ে তার হারানো উদ্যম ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করুনতার অনুভূতি জানতে চান, এবং এ কথাটি বলুন

সবাই শিখতে শিখতেই বিখ্যাত হয়, ঠিক তোমার মতঃ

সন্তানের সামনে কোন একজন আদর্শ সফল ব্যক্তিকে রাখুনযেমন স্টিফেন হকিংসতার জীবনের চেষ্টা, পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যের কথা সন্তানকে শোনানউৎসাহ দিন যে একদিন সেই উচ্চতায় তার পক্ষেও পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়!

তুমি নিরাপদে আছো, তোমাকে সবাই পছন্দ করেঃ

বিশেষত কৈশোরে সন্তানেরা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাদের মনে হয়, কেউ তাদের ভালোবাসে নাএই নিরাপত্তাহীনতার জায়গা থেকে তারা ভুল ভাল প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, হতে পারে মাদকাসক্তওতাই এই নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি থেকে বের করে আনতে এই কথাটি বলুন

আমি তোমার বন্ধু, যেমনটা তুমি আমারঃ

সন্তানের বন্ধু হতে হলে আগে তাকে এটা বুঝতে দিন যে আপনিও তাকে বন্ধু মনে করেনদৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজে তার পরামর্শ জানতে চানতাকে বলুন, আপনি তাকে বন্ধু ভাবেন এবং আপনি নিজেও তার বন্ধুএতে সন্তান কোন অপরাধ করে এলেও আপনার কাছে স্বীকার করবে সহজেই!

আমি তোমাকে বুঝতে পারিঃ

এটা খুব জরুরী! পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই চায় যে, তাকে কেউ না কেউ বুঝুক তাই এই চাওয়ার জায়গাটাকে গুরুত্ব দিনসন্তানও ভবিষ্যতে আপনার চাওয়াকে গুরুত্ব দেবে নিঃসন্দেহে!

চর্চা করো, তোমাকে দিয়ে সব সম্ভবঃ

আপনার সন্তান হয়তো কোন একটি বিষয়ে ভালো করতে পারছে নাএক্ষেত্রে তাকে হতাশ করে এমন কণ কথা না বলে চর্চার পরামর্শ দিন

১০তুমি পারবে না এমন কোন কাজ নেইঃ

একজন মানুষকে দিয়ে কখনোই সব কিছু হওয়া সম্ভব নাকিন্তু সন্তানকে এ কথাটি বলুন তার সাহস বাড়াতেএতে তার চেষ্টার পরিমাণ বেড়ে যাবে হাজারগুণে
আপনার ও আপনার সন্তানের মাঝে কখনোই দূরত্ব সৃষ্টি না হোকরক্তের বন্ধন হোক অমলিন

No comments:

Post a Comment

ali