Saturday, April 16, 2016

চুলকানির সমাধান- ডাক্তার - health and fitness articles



 

 চুলকানি সমাধান

শরীর চুলকানি কোন নতুন সমস্যা নয়বিভিন্ন কারণেই দেহে চুলকানি হতে পারে অনেক সময়ই আমাদের হাতে, পায়ে, পিঠে চুলকানি হয়তা কোন শারীরিক অসুস্থতা ছাড়াই হতে পারে কোন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ যা আমরা হাত দিয়ে চুলকালেই সেরে যায়তবে অন্যান্য ধরণের কিছু চুলকানি হয়ে থাকে যেমন- এলার্জি, মশার কামড় কিংবা যেকোন পোকার কামড়, শরীরে কোন জায়গায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামণ, হাত পা ছিলে গেলে তা শুকানোর সময়ও চুলকানি হয়ে থাকেআর এই সমস্যাগুলোতে হাত দিয়ে চুলকিয়েই আরাম পাওয়া যায়নাবেশি সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখাতে হয় কিংবা ঘরোয়া উপায়েও সারিয়ে তোলা যায়তাই যে কোন রকমের চুলকানি সারিয়ে তুলতে আপনি সাহায্য নিতে পারেন প্রাকৃতিক কিছু জিনিসেরচলুন জেনে নিই, জিনিস গুলো ও তার ব্যবহার সম্পর্কে

লেবু


ভিটামিন সি তে ভরপুর লেবু যে কোন চুলকানি খুব সহজেই দূর করে দেয়বিশেষ করে লেবুর ভোলাটাইল তেল শরীরের যেকোন রকমের চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে থাকেলেবু টুকরা করে কেটে নিয়ে চুলকানির স্থানে কিছুক্ষণ ঘষুন দেখবেন চুলকানি কবে যাবে

পেট্রোলিয়াম জেলি


যদি আপনার ত্বক খুব নাজুক হয়ে থাকে তাহলে খুব সহজেই পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন কারণ এর কোন বিপরীত প্রতিক্রিয়া নেই এবং এই জেলিতে কোন ধরণের বিষাক্ত পদার্থ নেই যা আপনার ত্বকের ক্ষতি করবেতাই শরীরের কোন অংশে চুলকানি হলে আপনি পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেনচুলকানি

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে মশ্চারাইজিং ক্ষমতাএবং এটি আমাদের ত্বকের জন্য খুব ভালোশরীরের যেকোন জায়গায় চুলকানি হলে অ্যালোভেরা কেটে এক টুকরা নিয়ে সেখানে ঘষুন চুলকানি চলে যাবে3

তুলসী পাতা

কর্পূর সমৃদ্ধ তুলসী পাতা ত্বকের যেকোন ধরণের জ্বালা পোড়া ও চুলকানি থামাতে সহায়তা করেকয়েকটি তুলসী পাতা নিয়ে ধুয়ে নিন তারপর যেখানে চুলকানি হয়েছে সেখানে পাতা গুলো কিছুক্ষণ ঘষুনঅথবা কিছু তুলসী পাতা পানিতে দিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি বরফ করুন এবং চুলকানি স্থানে ঘষুন
বেকিং সোডার ব্যবহার :
৩:১ অনুপাতে বেকিং সোডা ও পানির মিশ্রন তৈরি করে পেস্টের মতো বানিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুনঅনেকটা আরাম পাবেন এবং চুলকানির itching সমস্যা দূর হয়ে যাবেতবে ত্বকে কোনো ধরণের ক্ষত থাকলে তার উপরে বেকিং সোডা লাগাবেন না
মধু ও দারুচিনির ব্যবহার :
সমপরিমাণ দারুচিনির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করে নিনএরপর এই মিশ্রণটি আক্রান্ত স্থানে ভালো করে লাগিয়ে নিনখানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন অথবা আপনার চুলকানির itching অনুভূতি দূর হওয়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুনএরপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন


চুলকানি মানেই অ্যালার্জি নয়

চুলকানি কোন রোগ নয়, বিভিন্ন রোগের উপসর্গ মাত্রসাধারণের মাঝে ধারণা রয়েছে চুলকানি মানেই এলার্জি, বাস্তবে কিন্তু তা নয়এলার্জিতে চুলকানি অবশ্যই একটা প্রধান উপসর্গকিন্তু এলার্জি ছাড়া বহু রোগ রয়েছে যেখানে চুলকানি উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারেচুলকানি দু'ভাবে শরীরে দেখা দিতে পারেসারা শরীর জুড়ে হতে পারে, আবার শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে এর উপসর্গ সীমাবদ্ধ থাকতে পারেঅন্যদিকে চুলকানি যে শুধুমাত্র চর্মরোগই হবে তা নয় চর্মরোগ ছাড়া দেহের ভেতর অবস্থিত বহু রোগও চুলকানি হতে পারেসারাদেহে চুলকানি শব্দটি সাধারণত যখন ত্বকের প্রাথমিক কোন কারণ পাওয়া যাবে নাতখনই ব্যবহার করা যেতে পারেকারণ সারাদেহে চুলকানি অথবা দেহের সামগ্রিক চুলকানি সমস্যা সাধারণত দেহের অভ্যন্তরীণ রোগের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে হয়ে থাকে এবং এটা শতকরা ১০ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ ক্ষেত্রেযখনই সমগ্র দেহে চুলকানি দেখা দেবে তখনই নিজের কোন সমস্যা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকারএজন্য নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো বিবেচনায় আনা উচিতযেমন- ত্বকের শুষ্ক হওয়াজনিত সমস্যার কারণে চুলকানি হতে পারেএই সমস্যাটি অবশ্য মধ্যবয়স্ক বা বৃদ্ধদের বেলায় বেশি দেখা দিতে পারেএক্ষেত্রে দেখা যাবে যে, ত্বক থেকে বেশি মরা চামড়া উঠে যাচ্ছে, অবশ্য অল্প মাত্রায়এ ধরনের সমস্যায় তৈলাক্ত পদার্থের ব্যবহার, ইমলিয়েন্ট ব্যবহার করবেন এবং সাবান ব্যবহার বন্ধ রাখলে বেশ উপকার পাওয়া যেতে পারেদু' থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি পরিলক্ষিত হবে তারপরেও সমস্যা থাকলে অন্য কোন কারণ রয়েছে কিনা তা চিন্তা করতে হবে
-লাল চাকা হয়ে যাওয়া সমস্যা যদি দেখা যায় তাহলে আমবাত রোগটির কথা চিন্তা করতে হবেযদি বাহ্যিক কারণজনিত কোন ঠান্ডা, গরম, ব্যায়াম, রোদে যাওয়া, পানির সংস্পর্শ এগুলোর কারণ হয়ে থাকে তাহলে নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব
-খুজলি, উকুন, সংস্পর্শজনিত একজিমা এসব কারণেও চুলকানি হয়যদি উপরোক্ত ত্বক সমস্যার কারণে চুলকানি না হয়ে থাকে তাহলে দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রোগের জন্য রোগীকে ভালভাবে পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ইত্যাদি করা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে দেহের অভ্যন্তরীণ রোগ নির্ণয় করা প্রয়োজন
-পিত্তনালী বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে প্রচন্ড চুলকানি হাত-পায়ের তালুতে হতে পারেএটা বিলিয়ারী সিরোসিস নামক রোগ অথবা ওষুধ ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও হতে পারেএ ধরনের রোগে বাইল সল্ট নামক পদার্থ ত্বকের নিচে জমা হয়ে চুলকানির সমস্যা সৃষ্টি করে থাকেএ ক্ষেত্রে কলিস্টারামিন নামক ওষুধ প্রয়োগে চুলকানি উপসর্গ থেকে মুক্তি থাকা যায় কিডনির অসুখে চুলকানি হতে পারেদীর্ঘকালীন কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া যাকে ক্রনিক রেনাল ফেইলুর বলা হয়ে থাকেএ ক্ষেত্রে রোগের সাথে সারাদেহে চুলকানি সমস্যা দেখা দিতে পারেএ রোগে চুলকানি ছাড়াও ত্বক শুষ্ক থাকবে হাইপারপ্যারাথাইরয়েড রোগেও এ সমস্যা হতে পারেএ ক্ষেত্রে প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির অপারেশন করতে হবে
ক্রনিক রেনাল ফেইলুরের কিছু ক্ষেত্রে চুলকানির কারণ ব্যাখ্যা সম্ভব নাও হতে পারেএ ধরনের ক্ষেত্রে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির ব্যবহার, ওষুধ কলিসটাইমিন, চারকোল, আমিষ জাতীয় খাবার, বার্লি ইত্যাদির মাধ্যমে চুলকানি কমিয়ে আনা সম্ভবডায়ালাইসিস করার মাধ্যমে সবসময় চুলকানি মুক্ত থাকা সম্ভব নয় বরং কিছুটা ক্ষেত্রে বেড়েও যেতে পারেসেই ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার কমিয়ে আনলে বরং কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারেতবে একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, একিউট রেনাল ফেউলুরে কিন্তু চুলকানি থাকবে নাডায়াবেটিস রোগে চুলকানি থাকতে পারেযদিও শতকরা ১ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়ডায়াবেটিসে কেন চুলকানি হয়, এটা স্পষ্ট না হলেও ধারণা করা যায় ত্বক শুষ্ক থাকার কারণে এবং ডায়াবেটিস রোগীর স্নায়ু দুর্বলতার জন্য ত্বকে চুলকানি হতে পারেথাইরয়েড গ্রন্থির রোগেও চুলকানি থাকতে পারে থাইরয়েড গ্রন্থির রোগেও চুলকানি থাকতে পারেএটা থাইরয়েড গ্রন্থির অতিমাত্রায় কার্যকারিতা যেমন চুলকানি উপসর্গ থাকতে পারেঅন্যদিকে থাইরয়েড গ্রন্থি কম কাজ করলেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে সারাদেহে চুলকানি হতে পারেপ্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির রোগের কার্যকারিতা কম হওয়ার সমস্যা সমগ্র দেহে চুলকানি হতে পারেরক্তের আয়রন কমে যাওয়ায় রক্তশূন্যতা রোগের চুলকানি হতে পারেরক্তের লোহিহত কণিকার মাত্রা বেড়ে গেলেও চুলকানি হতে পারেসে ক্ষেত্রে দেখা যাবে যে, গলা, মাথা ও হাতে পায়ে চুলকানি হচ্ছে এ ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে চুলকানি দেখা দেবেযদি কখনও দেহে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায় অথবা পানির সংস্পর্শে আসে তাহলে চুলকানি হতে পারেএ ধরনের চুলকানিজনিত সমস্যা এসপিরিন জাতীয় ওষুধের কার্যকরি ভূমিকা রয়েছেএছাড়াও কলিস্টাইরামিন, পিজোটিফেন, সাইমেটিডিন ওষুধের কার্যকারিতা রয়েছেক্যান্সার জাতীয় রোগের হজস্কিন ডিজিজ এই রোগটিকে চুলকানি তীব্র আকারে দেখা দিতে পারেহিজকিন ছাড়াও আরো কিছু ধরনের ক্যান্সার জাতীয় রোগের চুলকানি হতে পারেপরজীবী দ্বারা সংঘটিত রোগ যেমন বিভিন্ন ধরনের কৃমি রোগের চুলকানি হতে পারেকিছু কিছু ওষুধ ব্যবহারেও চুলকানি হতে পারেবিশেষ করে ম্যালেরিয়া রোগের ব্যবহৃত ওষুধ স্নায়ুতন্ত্রের রোগে ব্যবহৃত ওষুধ নারকোটিস্ক জাতীয় ওষুধ ইত্যাদি ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুলকানি উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারেএইডস রোগের চুলকানি সমস্যা বিশেষভাবে হতে পারেউপরোক্ত বিভিন্ন রোগ ছাড়াও কিছু রোগ যাকে অটোইমিউন রোগ বলা হয়ে থাকেএসব রোগের যেমন চুলকানি হতে পারে অন্যদিকে বিভিন্ন মানসিক রোগ ও স্নায়ণুরোগেও প্রচন্ড চুলকানি সামগ্রিক দেহের চুলকানি হতে পারেঅতএব চুলকানির সমস্যার জন্য কারণ অনুযায়ী ও রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা করা প্রয়োজনচুলকানি চিকিৎসায় কিছুটা স্বস্তি পেতে হলে এন্টিহিসটামিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে উপকার পাওয়া যেতে পারেত্বক শুষ্ক থাকার কারণে চুলকানি হলে তৈলাক্ত পদার্থের ব্যবহার ইমলিয়েন্ট ব্যবহার আরামপ্রদ, ঠান্ডা পরিবেশ চুলকানি উপশমে উপকারী

No comments:

Post a Comment

ali