Saturday, February 6, 2016

পক্ষাঘাত রোগীর জীবন বদলাবে ফিনিক্স




কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের চলাফেরার জন্য কিছুদিন আগেও একমাত্র ভরসা ছিল হুইলচেয়ারতবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউসি বার্কলে) কয়েকজন গবেষক যন্ত্রনির্ভর নতুন একধরনের কৃত্রিম আবরণ বানিয়ে সেই ছবিটা বদলে দিয়েছেন
ইউসি বার্কলের রোবোটিকস অ্যান্ড হিউম্যান ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরির গবেষকেরা তৈরি করেছেন ওই আবরণ বা এক্সোস্কেলেটনএটি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত অংশে যুক্ত করলে রোগী সীমিত পরিসরে হলেও হাঁটতে পারেনএ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে 
গবেষণায় নেতৃত্ব দেন রোবোটিকস বিভাগের ইরানি অধ্যাপক হুমায়ুন কাজেরুনিযান্ত্রিক এক্সোস্কেলেটন তৈরির জন্য তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেনকাজেরুনির নেতৃত্বে তৈরি নতুন ওই এক্সোস্কেলেটনের নাম দেওয়া হয়েছে ফিনিক্সএটি তুলনামূলকভাবে হালকা হওয়ায় পক্ষাঘাত রোগীর জন্য বিশেষ উপযোগীরোগীর নিতম্বের আবরণ অংশে দুটি মোটর যুক্ত রয়েছেউঠে দাঁড়ানো এবং চলাফেরার সময় বিদ্যুৎশক্তির সাহায্যে আবরণটির চাপ কমানো-বাড়ানো যায়রোগী নিজেই পায়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনতবে সে জন্য তাঁর দুই হাতে ক্র্যাচ রাখতে হবেক্র্যাচে যুক্ত বোতাম চেপে ওই এক্সোস্কেলেটনের সাহায্যে ঘণ্টায় এক মাইলের কিছু বেশি গতিতে চলাফেরা করতে পারবেন রোগীতাঁর কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ব্যাটারির সাহায্যে যন্ত্রটি আট ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে 
অধ্যাপক কাজেরুনি বলেন, ‘আমরা পক্ষাঘাত রোগ সারাতে পারি নাতবে রোগীরা বসে থাকতে থাকতে যেন নতুন কোনো অসুখে আক্রান্ত না হন, সে চেষ্টা করেছিএই এক্সোস্কেলেটন ব্যবহার করলে রোগীরা আগের চেয়ে ভালো জীবন যাপন করতে পারবেন
কাজেরুনি ও তাঁর সহযোগীরা গত কয়েক বছরে নানা রকমের এক্সোস্কেলেটন বানিয়েছেনযুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টের অর্থায়নে ২০০০ সালে এ কাজ শুরু করেন কাজেরুনিরালক্ষ্য ছিল মানুষকে বেশি ভারী জিনিসপত্র দীর্ঘ সময় বহনে সক্ষম করতে কৃত্রিম আবরণ তৈরি করাতখন কাজেরুনি বুঝতে পারেন, চিকিৎসাক্ষেত্রেও এ ধরনের এক্সোস্কেলেটন কাজে লাগবেবিশেষ করে, হুইলচেয়ারের বিকল্প হিসেবেএকপর্যায়ে তিনি পক্ষাঘাত রোগীদের জন্য নিত্যব্যবহার্য ও নির্ভরযোগ্য এক্সোস্কেলেটন তৈরির উদ্যোগ নেন 
ফিনিক্স ইতিমধ্যে বাজারে এসেছেএটা রোগীর শরীরের ওজন, উচ্চতা ও পায়ের আকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া যায়তবে দামটা চড়া, ৪০ হাজার মার্কিন ডলারআরও কম দামে এই এক্সোস্কেলেটন তৈরির চেষ্টা চলছে

No comments:

Post a Comment

ali